বিজ্ঞাপন:
গাছে উঠেছিলেন আম পাড়তে, ফিরলেন লাশ হয়ে

গাছে উঠেছিলেন আম পাড়তে, ফিরলেন লাশ হয়ে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে ধান কাটার কাজ করার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে ঈদের পরের সময়টা কাটানোর কথা ছিল আনন্দে। কিন্তু একটি আম পাড়তে গিয়েই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতের ছোবলে নিভে গেল এক তরুণ জামাইয়ের জীবন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শফিকুল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বুধবার (৩ জুন) সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের পশ্চিম রামজীবন গ্রামের খংগুয়া ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নিহত শফিকুল ইসলাম সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মধ্য ভাঙ্গা মোড় গ্রামের রশিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রামজীবন গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার জামাতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে শফিকুল ইসলাম শ্বশুরবাড়িতে আসেন। বর্গাচাষের জমির ধান কাটার কাজে সহযোগিতা করতেই তার এই আগমন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ির পাশের একটি আমগাছে ওঠেন আম পাড়ার জন্য। গাছের ডাল থেকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আম পাড়ার চেষ্টা করার সময় অসাবধানতাবশত বাঁশটি গাছের পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারে স্পর্শ করে।

মুহূর্তেই বিকট শব্দে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে। বাঁশের লাঠিতে আগুন ধরে যায় এবং প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক শকে শফিকুল গাছের সঙ্গেই আটকে পড়েন। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

হঠাৎ এমন মৃত্যুতে শ্বশুরবাড়ি ও নিজ বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। যে মানুষটি ধান কাটার কাজে সাহায্য করতে এসেছিলেন, তিনি আর জীবিত ফিরলেন না—এ বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com